Home » আড়াইহাজারের সবজি বিদেশে

আড়াইহাজারের সবজি বিদেশে

0 মন্তব্য 42 ভিউজ

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববাজারেও যাচ্ছে আড়াইহাজারের সবজি। চলতি ডিসেম্বর মাসে কয়েক দফায় শুধু মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বাঁধাকপি, ফুলকপি, টমেটো, লাউসহ বিভিন্ন সবজি রপ্তানি করে কয়েক কোটি টাকা আয় করেছেন চাষিরা। আগামী তিন মাসে আড়াইহাজার থেকে ৩৫ দেশে অন্তত আরও সাত কোটি টাকার সবজি রপ্তানির আশা করছেন তাঁরা।

কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, উপজেলায় চলতি বছর ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন তাঁরা। তবে আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। বাঁধাকপি, ফুলকপি, রজবপাতা, লাউপাতা, লাউশাক, বরবটি, কাঁকরোল, উচ্ছে, ঝিঙে, লালশাক, ডাঁটা, চালকুমড়া, কচুরমুখী, মিষ্টিকুমড়া, বেগুন, টমেটো, পটোল, লাউ, কাঁচা পেঁপে, কাঁচাকলা, শসা, শিম, লাউ, ধনেপাতা, কাঁচামরিচ, মুলাসহ অর্ধশতাধিক জাতের বিষমুক্ত সবজি এখান থেকে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কানাডা, দুবাই, ইতালিসহ প্রায় ৩৫টি দেশে। এ ছাড়া শত শত মণ সবজি প্রতিদিন নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জসহ অন্যান্য জেলার পাইকারি ব্যবসায়ীরা।

সরাবদী গ্রামের শফিকুল ইসলাম এবার ২০ বিঘা জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। ঢাকার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের নানা দেশে রপ্তানি হয় তাঁর ক্ষেতের লাউ, বেগুন, টমেটো, শিম ও আখ।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত এই চাষি বলেন, ২০ বিঘা জমি আবাদে তাঁর বছরে পাঁচ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। বিঘাপ্রতি লাউ উৎপাদিত হয় পাঁচ হাজার। টমেটো উৎপাদন করেন অন্তত ১২ হাজার কেজি। দিনে ৫-১০ জন শ্রমিক কাজ করেন। তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয়েছে সরাবদী আইএমএফ কৃষক সংগঠন। এর মাধ্যমে সবজিচাষিদের নানা পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হয়।

নগর জোয়ার গ্রামের শাহ আলম বলেন, ২৫ বিঘা জমিতে লাউ, উচ্ছে, মরিচ, করোলা, শসা, কপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি জাতীয় ফসল চাষ করেছেন। চলতি বছরে ১০-১২ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।

তিনি বলেন, আগে হাটে সবজি নিয়ে বিপাকে পড়তে হতো। সেখানে সরবরাহ বেশি হলে দাম কমে যেত। এতে অনেক সময় লোকসান দিয়ে বিক্রি করতে হতো। এখন বিদেশে রপ্তানি বাড়ায় সেই সমস্যায় পড়তে হয় না।

ছোট বিনাইরচর গ্রামের সাফিজল মিয়া বলেন, ‘দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় আমাদের এখানকার সবজির স্বাদ ভালো। তাই এর চাহিদা অনেক বেশি।’

পাইকার কামাল হোসেন বলেন, ‘আমরা সরাসরি জমি থেকে সবজি সংগ্রহ করে ঢাকার যাত্রাবাড়ী ও কারওয়ান বাজারের আড়তদারদের কাছে নিয়ে যাই। সেখানে প্রক্রিয়াজাত করার পর রপ্তানিকারকরা নানা দেশে পাঠান।’ ২৫০-৩০০ গ্রাম ওজনের লাউয়ের চাহিদাই বিদেশে বেশি বলে জানান তিনি।

অপর ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিন বলেন, ‘আমরা কৃষকের কাছ থেকে বিষমুক্ত সবজি আনি। পরে প্যাকেট করে দুবাই, কাতার, ইতালি, কুয়েতসহ নানা দেশে পাঠাই। আবার ঢাকা, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন আড়তেও যায়।’

কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান ফারুকী বলেন, উপজেলার ৩০০ কৃষক রপ্তানির উপযোগী বিষমুক্ত সবজি উৎপাদন ও সরবরাহ করছেন। বিষমুক্ত সবজি চাষে তাঁরা সেক্স ফেরোমন, হলুদ আটা টেপ, আলোক ফাঁদ পদ্ধতিসহ নানা বিষয়ে পরামর্শ দিয়ে আসছেন।

আরও পড়ুন

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.