Home » রংপুর অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ টন বেশি আমন চাল উৎপাদন

রংপুর অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ টন বেশি আমন চাল উৎপাদন

0 মন্তব্য 35 ভিউজ

রংপুর অঞ্চলে ২০২২২৩ আমন মৌসুমে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার ৪৯৯ টন চাল উৎপাদন হয়েছেযা গত বছরের চেয়ে ৯৭ হাজার ৮৯৯ টন বেশি আমনের ভালো ফলনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কৃষি বিভাগ জানিয়েছেসানশাইন আওয়ার (সূর্যের আলোবেশি পাওয়ায় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের মতো আমন উৎপাদন হয়েছে আকাশ বেশি মেঘলা না থাকায় সালোক সংশ্লেষণ বেশি হওয়ায় ফলন বেড়েছে এদিকে শুরুতেই ধান  চালের দাম ভালো থাকায় কৃষকরা দাম পাচ্ছেন

রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার ঢুসমারা চরের কৃষক ইমদাদুল হক বলেন, এক একর জমিতে স্থানীয় জাতের পাইরী ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন ৬০ মণ। এজন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২৮ হাজার টাকা। বর্তমানে তার এলাকায় ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ১ হাজার টাকার ঊর্ধ্বে। ধানের বাজার এমন থাকলে তার ক্ষতি হবে না, কারণ শুধু পোয়াল (ধানের খড়) বিক্রি হবে প্রায় ২০ হাজার টাকার।

নীলফামারী সদর উপজেলার চরাই খোলা ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম বসূনিয়া বলেন, এ বছর ২০ বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘা) জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে ব্রি-৮৭ জাতের ধান দুই বিঘা জমিতে আবাদ করে পেয়েছেন ৩৬ মণ। ১০ বিঘা জমিতে স্বর্ণা-৫ জাতের ধান আবাদ করে ফলন পেয়েছেন ১৬০ মণ। বাকি আট বিঘা জমিতে স্বর্ণা জাতের ধান পেয়েছেন ১২০ মণ। আগাম জাতের (১০৫ দিন) ধান ব্রি-৮৭ তার এলাকায় এবার প্রথম আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের ফলন ভালো হয়েছে। বিঘাপ্রতি ধানের চারা রোপণ থেকে কাটা-মাড়াই করে বাড়িতে আনতে গত বছরের চেয়ে ২-৩ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে। গত বছর খরচ হয়েছিল ৮-৯ হাজার টাকা। বর্তমানে স্থানীয় হাটগুলোয় ধান বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ প্রকারভেদে ১ হাজার ১২০ টাকা থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায়। গত বছর এ সময় বিক্রি হয়েছে ৮০০-৯০০ টাকায় । যদিও শুরুতে গত নভেম্বরে ধানের দাম বেশি ছিল, বর্তমানে তা নিম্নমুখী। তবে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা অব্যাহত থাকলে কৃষকের ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান। এক মণ ধান থেকে চাল পাওয়া গিয়েছে ২৫ কেজি।

কুড়িগ্রাম জেলায় প্রতি বছর অতিবৃষ্টি ও বন্যায় আমন আবাদ বাধাগ্রস্ত হয়। এমনো দেখা গেছে, প্রথম আবাদ বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ নষ্ট হওয়ায় আবার ধানের চারা রোপণ করতে হয়। কিন্তু এ বছর তেমন সমস্যা হয়নি। ফলে এ জেলায়ও ভালো ফলন পেয়েছেন কৃষক।

কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার বেলাগাছা ইউনিয়নের কালে গ্রামের কৃষক আব্দুল ওয়াহেদ। এবার চার বিঘা জমির এক বিঘায় সুগন্ধী ধান ব্রি-৩৪ ও তিন বিঘা জমিতে গুটিস্বর্ণা জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। তবে তিনি মনে করেন, বর্তমানে ধানের যে বাজার, তা নিম্নমুখী না হলে ধান কাটা-মাড়াইয়ে যে বাড়তি শ্রমিকের মজুরি দিতে হয়েছে, তা পূরণ হবে।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, রংপুর অঞ্চলে আমন আবাদের লক্ষ্য ছিল ৬ লাখ ১৫ হাজার ৬৮৫ হেক্টর। চাল উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ১৮ লাখ ৭ হাজার ৯১৬ টন। তবে অর্জিত জমির পরিমাণ হচ্ছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৮১ হেক্টর। এর মধ্যে রংপুর জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছে ৫ লাখ ২ হাজার ৩৩৬ টন, গাইবান্ধায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার ১৫৪, কুড়িগ্রামে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৯৪৬, লালমনিরহাটে ২ লাখ ৬৩ হাজার ৩৭২ ও নীলফামারীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার ৬৯০ টন।

২০২১-২২ আমন মৌসুমে ৬ লাখ ১৪ হাজার ২৯৫ হেক্টর জমিতে চালের উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৬০০ টন।

রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, ‘আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এ বছর আমন ধানের ভালো ফলন হয়েছে। সূর্যের আলো বেশি পাওয়ায় এবং মাঝে মাঝে বৃষ্টি হওয়ায় বোরো ধানের মতো আমন উৎপাদন হয়েছে। আকাশ বেশি মেঘলা না থাকায় সালোক সংশ্লেষণ বেশি হয়েছে বলে ফলন বেড়েছে। হেক্টরপ্রতি গড় ফলন পাওয়া গিয়েছে ৩ দশমিক ৩ টন। গত বছর গড় ফলন ছিল ২ দশমিক ৮৯ টন।

আরও পড়ুন

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.