Home » প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরেই খুলতে যাচ্ছে তিস্তার জট!

প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরেই খুলতে যাচ্ছে তিস্তার জট!

0 মন্তব্য 13 ভিউজ

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে দিল্লি যাচ্ছেন শুক্রবার। এ সফরকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ আখ্যায়িত করে ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে তাতে সফরের সময়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি বিনিময়ের কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শেখ হাসিনার এই দিল্লি সফরেই মিটতে পারে তিস্তা সমস্যা। বাংলাদেশে তিস্তায় ড্রেজিং ও ব্যারাজ নির্মাণের বহুমুখী প্রকল্পে অর্থায়ন করতে পারে ভারত। এই প্রকল্পটি রূপায়িত হলেই বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকার পানি সমস্যা অনেকটাই মিটবে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যে মজবুত বন্ধন তৈরি হয়েছে তারই সুফল পাবেন বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ।
তিস্তার পুনরুজ্জীবন নিয়ে বহুদিন ধরেই চর্চা চলছে। তিস্তায় চীনও অর্থায়ন করতে চাইছে। ২০১৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর চীনের ‘পাওয়ার কন্সট্রাকশন কর্পোরেশন অব চায়না’- কোম্পানির সঙ্গে বাংলাদেশের এক সমঝোতা স্মারক সাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার হাত ধরে চীন জরিপ চালায় তিস্তাপারে।
এছাড়া ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন তিস্তা প্রকল্প রূপায়নের বরাদ্দ পাওয়ার জন্য বারবার দরবার করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। প্রচুর বিনিয়োগের আশাও দেখাচ্ছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যদি তিস্তা প্রকল্পে বিনিয়োগ করে তিস্তার পানি বন্টনেও ভারতের দায়বদ্ধতা কাজ করবে। তাই প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরকালে তিস্তা নিয়ে আলোচনা খুবই জরুরি বলে কূটনৈতিক মহল মনে করছে।
শেখ হাসিনা অবশ্য তৃতীয় মেয়াদে মোদির সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ৮ জুন দিল্লি গিয়েছিলেন। একই মাসে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরই বুঝিয়ে দেয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন কতটা মজবুত। এছাড়া আগামী ৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে যাবেন। তার আগে দিল্লি সফর বিশেষ উল্লেখযোগ্য।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেতে চলেছে তিস্তা বহুমুখী প্রকল্প। তিস্তার পানি নিয়ে ভারত তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে আমাদের বঞ্চিত করলেও তিস্তার আমূল সংস্কারের মাধ্যমে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাইছে।
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রা তিস্তার বহুমুখী প্রকল্পে অর্থায়ণের ইঙ্গিত আগেই দিয়েছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে পারে। সেইসঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
২০২৬ সালের মধ্যেগঙ্গার পানি বন্টন চুক্তিটির নবায়ন করতে হবে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছর মেয়াদি চুক্তিটি সই করেছিল ভারত ও বাংলাদেশ। সেইদিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর এই সরকারি সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গত ১০মে ভারতে নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যেই ঢাকা সফরে এসে তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পে অর্থায়ণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব। বাংলাদেশের ভিতরে তিস্তার বুকে ড্রেজিং ও ব্যারাজ নির্মাণের বহুমুখী প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন তিনি। তার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা তিস্তায় একটা বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছি। ভারত সেখানে অর্থায়ন করতে চায়। আমি বলেছি, তিস্তায় যে প্রকল্পটি হবে, সেটি আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী হবে। আমাদের প্রয়োজন যেন পূরণ হয়।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। খরা বা বর্ষায় মানুষের দুর্ভোগ কমবে। তিস্তাকে ঘিরে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্প, পর্যটন কেন্দ্র। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই তৈরি করা হয়েছে তিস্তার পুনরুজ্জীবন প্রকল্প।
তিস্তাকে সঠিকভাবে সংস্কার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। বহু জায়গাতেই দখল হয়ে যাচ্ছে তিস্তা। বেআইনি নির্মাণের শিকার হচ্ছে দেশের নদীগুলি। তাই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে দেশের প্রধান প্রধান নদীগুলিকে ড্রেজিং করা খুব জরুরি। কারণ বেশিরভাগ নদীরই নব্যতা কমে গিয়েছে। বর্ষায় তিস্তা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করলেও অন্য সময় তাতে পানি থাকে না।
এসব লক্ষ্য রেখেই বাংলাদেশ সরকার তিস্তায় ড্রেজিং ও ব্যারাজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সিদ্ধান্তকেই বাস্তবে রূপ দিতে চায় ভারত। দেশে ১১৫ কি.মি. তিস্তার গতিপথে ইতিমধ্যেই সমীক্ষার কাজ শেষ। ১০ মিটার ড্রেজিং করে প্রকল্পটিতে তিস্তার নাব্যতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে তিস্তার দুপাশের জমি উদ্ধার করে চার লেনের সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব।
কৃষির অগ্রগতির জন্য সেচের ব্যবস্থাও গড়ে উঠবে তিস্তা প্রকল্পের হাত ধরে। খালের মাধ্যমে কৃষি জমিতে পানি পৌঁছানো হবে। থাকবে পানি নিয়ন্ত্রণের আধুনিক বন্দোবস্ত। ১৯৯৩ সাল থেকে তিস্তা নদী সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর সমাধানের চেষ্টা চলছে। তিস্তা তীরবর্তী কয়েক কোটি মানুষের জীবনধারণের স্বার্থেই তিস্তা প্রকল্পের বাস্তবায়ণ জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, তিস্তা সমস্যার সমাধানের একমাত্র পথ ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক। ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক আইন মেনে সমাধান সূত্র বের করতে হবে। আশার কথা, তিস্তা প্রকল্পে অর্থায়ণের কথা বলে ভারত জটিলতা কাটাতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তিন দশক ধরে তিস্তা নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এখন সময় হয়েছে প্রকল্প রূপায়ণের।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরই তিস্তার জট খুলতে শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কূটনৈতিক প্রয়াসে তিস্তার পানি বন্টনের ক্ষেত্রেও ভারতের নরম মনোভাব সামনে আসে। আশার আলো দেখতে পান বাংলাদেশের মানুষ। কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। কিন্তু তার বদলে ভারত এগিয়ে আসে তিস্তার পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের অর্থায়নে।
শেখ হাসিনা ২০২৩ সালের ২ আগস্ট রংপুরে এক নির্বাচনী জনসভায় তিস্তা পুনরুজ্জীবন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করার ঘোষণা দেন। তারপর থেকেই শুরু হয় প্রকল্পের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ণের চেষ্টা। প্রস্তাবিত তিস্তা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের হাত ধরে নদীর দুই পারে গড়ে উঠবে স্যাটেলাইট শহর। নদীর খনন ও শাসনের পাশাপাশি থাকবে ভাঙন প্রতিরোধের আধুনিক ব্যবস্থা। গড়ে তোলা হবে আধুনিক কৃষি সেচ ব্যবস্থা, মাছ চাষ প্রকল্প। পযটন কেন্দ্রও গড়ে উঠবে তিস্তা পারে। আমূল বদলে যাবে তিস্তা পারের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধার জনজীবন। খরা বা বন্যায় তিস্তাকে নিয়ে মানুষের দুর্ভোগের দিন শেষ হতে পারে প্রকল্পটি বাস্তবায়ণের মাধ্যমে।

আরও পড়ুন

মতামত দিন


The reCAPTCHA verification period has expired. Please reload the page.

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.