Home » আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন মুশফিক

আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিকে বিদায় বললেন মুশফিক

0 মন্তব্য 114 ভিউজ

সব আলোচনা থামিয়ে দিয়ে মুশফিক আজ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের হয়ে আর না খেলার ঘোষণা দিতে মুশফিক বেছে নিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম।

বাংলাদেশের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান টুইটার ও ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসরের ঘোষণা দিচ্ছি। এখন থেকে টেস্ট আর ওয়ানডে ক্রিকেটেই মনোযোগ দিতে চাই।’ তবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগসহ বিভিন্ন দেশের টি-টোয়েন্টিগুলোয় খেলে যাবেন বলেও জানিয়েছেন মুশফিক, ‘সুযোগ এলে আমি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে খেলার জন্য তৈরি আছি।’

ঘোষণাটি দিলেন এমন মুহূর্তে, যখন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সময়ের হিসাবে সবচেয়ে বেশি ১৫ বছর ২৮১ দিনের ক্যারিয়ার তাঁর।

ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণ থেকে বিদায়কালে কী পদচিহ্ন রেখে গেলেন মুশফিক, একনজরে তা দেখে নেওয়া যাক—ম্যাচ: ১০২, ইনিংস: ৯৩, রান: ১৫০০, সর্বোচ্চ: ৭২*, গড়: ১৯.৪৮, স্ট্রাইক রেট: ১১৫.০৩।

এর সঙ্গে ৬টি ফিফটি, ৩৭টি ছয়, ৪টি ম্যাচসেরার পুরস্কার, উইকেটকিপিংয়ে ৪২টি ক্যাচ আর ৩০টি স্টাম্পিংও উল্লেখ করার মতো।

এত এত সংখ্যার ভিড়ে মুশফিককে সবচেয়ে বেশি প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে স্ট্রাইক রেট নিয়ে। ১০২ টি-টোয়েন্টির ৯৩ ইনিংসে ব্যাট করে ১ হাজার ৩০৩ বল খেলে করেছেন ১৫০০ রান, স্ট্রাইক রেট ১১৫.০৩।

তাঁর রান তোলার এই গতি নিয়ে এশিয়া কাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ম্যাচে ওয়াসিম আকরামও প্রশ্ন তুলেছিলেন। ধারাভাষ্য কক্ষে তিনি বলেছেন, ১০০–এর বেশি ম্যাচ খেলেও স্ট্রাইক রেট ১১৫ কেন?

শুধু রান তোলার গতিই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে সঙ্গে যোগ হয়েছিল ছন্দে না থাকার অস্বস্তিও। সর্বশেষ ৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে সাকল্যে তুলতে পেরেছেন মাত্র ৭৩ রান। যে কারণে ২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান সিরিজে তাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়, পরে নিজে যেটিকে ‘বাদ দেওয়া’ মন্তব্য করে বিসিবির কারণ দর্শানো নোটিশ পেয়েছিলেন।

এরপর এশিয়া কাপের আগে জিম্বাবুয়ে সিরিজেও বিশ্রাম দেওয়া হয় তাঁকে। দলে ফেরেন এশিয়া কাপে, যেখানে দুই ম্যাচে তার অবদান ৫ রান!

মুশফিকের টি-টোয়েন্টি অভিষেক ২০০৬ সালে, খুলনায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকের ম্যাচে মাত্র ২ রান করেন মুশফিক। প্রথম ফিফটি পেয়েছেন টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৩০তম ম্যাচে।

১৬ বছরের এ যাত্রায় ভালো–মন্দ দুই অভিজ্ঞতাই হয়েছে মুশফিকের। সুখস্মৃতির মধ্যে আছে ২০১৮ সালে শ্রীলংকায় ত্রিদেশীয় নিদাহাস ট্রফি; যেখানে লংকানদের বিপক্ষে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন ৩৫ বলে ৭২ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।

পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষেও অপরাজিত ৭২ রানের একটি ইনিংস আছে তাঁর। ৫৫ বলের সেই ইনিংসে অবশ্য দলকে জেতাতে পারেননি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটিই তাঁর সর্বোচ্চ রানের স্কোর।

কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অপরাজিত ৭২ রানের ইনিংস খেলে দলকে জেতানো ম্যাচটি যদি তাঁর জন্য হয় আনন্দ-অনুভূতির, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল বেদনাবিধুর।

নানা বিষয় নিয়ে বেঙ্গালুরুর সেই ম্যাচ শুরুর আগেই উত্তাপ ছড়িয়েছিল। ম্যাচেও রোমাঞ্চ কম ছিল না। শেষ ওভারে গড়ানো ম্যাচটিতে শেষ পর্যন্ত অবশ্য জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শেষ ওভারে হার্দিক পান্ডিয়াকে দুটি চার মেরে আগাম জয় উদ্‌যাপন করে ফেলেছিলেন মুশফিক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ!

আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে মুশফিকের সেরা সময় ছিল নিদাহাস ট্রফির বছরটিই। সবচেয়ে বেশি ১৬ ম্যাচ খেলে রান করেছিলেন ৩৯৭, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩২.৩৩, গড় ছিল ৩০.৫৩। ক্যারিয়ারের চারটি ম্যাচসেরার দুটি, এবং ৬ ফিফটির ৩টিও ২০১৮ সালেই।

তবে এরপর আর টি–টোয়েন্টিতে ছন্দ ধরে রাখতে পারেননি মুশফিক। ২০১৯ সালের নভেম্বরে থেকে গত তিন বছরে ফিফটি মাত্র দুটি। ২০২১ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৮ ম্যাচ খেলে ১১৩.৩৮ স্ট্রাইক রেটে করেন মাত্র ১৪৪ রান।

তখন থেকেই পরবর্তী বিশ্বকাপে তাঁকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায় ক্রিকেটাঙ্গনে।

সেই প্রশ্ন সামনে রেখেই খেলতে গিয়েছিলেন এশিয়া কাপে। কিন্তু তাঁর স্ট্রাইক রেট আর টি–টোয়েন্টিতে ছন্দহীনতা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট–আকাশে, সেটা আর সামলাতে পারলেন না। বিদায় বলে দিলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে ছোট সংস্করণকে।

আরও পড়ুন

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.