Home » রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সাকিবের বরিশালকে হারাল মাশরাফির সিলেট

রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সাকিবের বরিশালকে হারাল মাশরাফির সিলেট

0 মন্তব্য 13 ভিউজ

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে সাকিব আল হাসানের বরিশালকে ২ রানে হারিয়েছে মাশরাফির সিলেট স্ট্রাইকার্স। এর আগে প্রথম দেখায় তারা বরিশালকে ৬ উইকেটে হারিয়েছিল।

মঙ্গলবার বিপিএলের ২৩তম ম্যাচে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে ১৭৩ রান করে সিলেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১৭১ রানে থামে বরিশাল। আর তাতে আসরে নিজেদের ষষ্ঠ জয়টা পেয়ে আয় সিলেট।

এ জয়ে ৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকছে সিলেট। সমান ম্যাচ খেলে ১০ পয়েন্ট নিয়ে মাশরাফিদের পরেই অবস্থান সাকিবের বরিশালের।

১৭৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় বরিশাল। দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও ইব্রাহীম জাদরান মিলে তুলে ফেলেন ৪২ রান। তবে ৪ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পরে যায় তারা। ১৯ বলে ৪ ছক্কায় ৩১ রান করা সাইফকে বিদায় করেন সিলেটের তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব। এরপর তিনে নেমে দ্রুত ফেরেন এনামুল হক (৩)।

চাপের মুখে ইব্রাহীমকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসের হাল ধরেন বরিশালের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। দুজনে মিলে ৫১ রানের দারুণ এক জুটি গড়েন। ফিফটির দিকে ছুটতে থাকা ইব্রাহীমকে (৪২) বিদায় করে জুটি ভাঙেন রেজাউর রহমান রাজা। একই ওভারে ১৮ বলে ২৯ রান করা সাকিবের উইকেটও তুলে নেন রাজা। তবে এরপরও হাল ছাড়েনি বরিশাল।

মাশরাফি বিন মর্তুজার এক ওভারে হ্যাটট্রিক ছক্কা হাঁকিয়ে চাপ থেকে দলকে কিছুটা মুক্তি দেন করিম জানাত। ওই ওভারে আসে ২১ রান। তাতে লক্ষ্যটাও ছোট হয়ে আসে। কিন্তু পরের ওভারে মোহাম্মদ আমির দারুণভাবে চেপে ধরেন দুই অন-ক্রিজ ব্যাটারকে। তার করা ইনিংসের ১৭তম ওভারে আসে মাত্র ১ রান। সেই সঙ্গে ওভারের শেষ বলে করিম জানাতকে কট অ্যান্ড বোল্ড করে আসল কাজটাও সেরে ফেলেন পাকিস্তানি পেসার। ১২ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন করিম।

শেষ ১৮ বলে ৪১ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায় বরিশালের সামনে। সাকিবের করা পরের ওভারের প্রথম দুই বলে ইফতিখার আহমেদের ব্যাট থেকে চার ও ছক্কায় আসে ১০ রান। তৃতীয় বলে স্ট্রাইকে গিয়ে ছক্কা হাঁকান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ওই ওভারে সবমিলিয়ে আসে ১৮ রান। কিন্তু পরের ওভারের প্রথম বলেই রিয়াদকে (৭) ফিরিয়ে ব্রেক থ্রু এনে দেন আমির। তবে স্ট্রাইকে গিয়েই ছক্কা হাঁকিয়ে বসেন মেহেদি হাসান মিরাজ।

শেষ ৬ বলে ১৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে গিয়ে প্রথম বলেই ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন ইফতিখার। রাজার বলে সজোরে হাঁকিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু বাউন্ডারি তো দূরের কথা, ৪০ গজের মধ্যেই ধরা পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। ফলে ১২ বলে ২১ রানের ইনিংস খেলে বিদায় নেন ইফতিখার। পরের বলে উইকেটরক্ষক মুশফিকুর রহিমের সরাসরি থ্রোয়ে রানআউট হয়ে ফেরেন মিরাজও (৭)। পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জমিয়ে তোলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। এতে শেষ বলে ৭ রান দরকার ছিল। কিন্তু ওয়াসিম হাঁকান চার। ফলে ২ রানে জিতে যায় সিলেট।

এর আগে টস জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় বরিশাল। খালেদ আহমেদের করা প্রথম ওভারে ১০ রান নিলেন শান্ত। কিন্তু পরের ওভারে তাণ্ডব চালান ওয়াসিম জুনিয়র। প্রথম বলে উপড়ে ফেলেন জাকির হাসানের স্টাম্প। পঞ্চম বলে গ্লান্স করতে গিয়ে ফাইন লেগে ক্যাচ দেন তৌহিদ হৃদয়। ওভারের শেষ বলে মুশফিকুর রহিমকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন ওয়াসিম। মুশফিক ও জাকির দুজনেই উপহার দেন গোল্ডেন ডাক। অন্যদিকে ইনজুরি কাটিয়ে দুই ম্যাচ পর মাঠে নামা হৃদয়ের ব্যাট থেকে আসে ৪ রান।

চাপের মুখে সেই ধাক্কা সামাল দেন শান্ত। সঙ্গে পান টম মুরসের। চতুর্থ উইকেটে ৮১ রানের জুটি গড়ে তোলেন তারা। তাতে আবারও রানের গতিতে ফিরতে শুরু করে সিলেট। মুরস ৩০ বলে ৪ চার ও ১ ছয়ে ৪০ রানে সাকিব আল হাসানের শিকার হয়ে ফিরলেও শান্ত চালিয়ে যান। ৪৮ বলে পূরণ করেন ফিফটি। এরপর বাকি ১৮ বলে ৩৭ রান নেন বাঁহাতি এই ওপেনার।

১৬ বলে ৪ চারে ২১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন থিসারা পেরেরা। তার উইকেটটি নেন কামরুল ইসলাম রাব্বি। প্রথম ওভারে ৩ উইকেট নেওয়া ওয়াসিম পরের তিন ওভারে কোনো উইকেটের দেখা পাননি, উল্টো রান দিয়েছেন ২৯।

আরও পড়ুন

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.