Home » ভূট্টার হলুদ রঙে সেজেছে জামালপুরের বিস্তীর্ণ ফসলী ক্ষেত

ভূট্টার হলুদ রঙে সেজেছে জামালপুরের বিস্তীর্ণ ফসলী ক্ষেত

0 মন্তব্য 195 ভিউজ

কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় জামালপুরে গত ৫ বছরে ভুট্টা চাষ বেড়েছে দ্বিগুনের বেশি। এ সময়ে যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের চরাঞ্চলের বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল যেন ভুট্টার হলুদ রঙে সেজেছে। শুধু চরাঞ্চল নয় জেলার বেশির ভাগ জমিতেই দেখা মিলছে ভুট্টা আবাদ। কৃষকরা বলছেন, এই সময়ে আগে ধান, মরিচ, আলুর চাষ করতেন। পরিশ্রম আর খরচ বেশি হওয়ায় তারা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এতে খরচ পরিশ্রম কম আর বেশি লাভের মুখ দেখছেন।

কৃষি অফিস বলছেন, কম খরচে বেশি লাভ আর স্থানীয় বাজারে চাহিদা থাকায় কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, বকশীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার চরাঞ্চলসহ আবাদী জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে।

গত ৫ বছরে এই অঞ্চলের কৃষকরা অন্যান্য ফসলের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। পরিশ্রম খরচ বেশি হওয়ায় তারা এ সময়ে ধান, মরিচ এবং আলু চাষ বাদ দিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন।

কৃষকরা জানিয়েছেন, ধান, মরিচ আলু আবাদে তাদের যে খরচ পরিশ্রম করতে হতো ভুট্টা চাষে  তেমন টি লাগে না। কম খরচে ভালো দাম আর খরচ কম হওয়ায় তারা ভুট্টা চাষ করছেন। প্রতি একরে ১২০ থেকে ১৩০ মণ ভুট্টা পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে দামও বেশি। প্রতিমণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ১৫শ টাকা। এতে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ করে লাভ হচ্ছে ৫০ হাজার টাকা।

জামালপুর সদর উপজেলার আড়ংহাটির গ্রামের ভূট্টা চাষী হীরা বলেন, ৫ বছর আগে ধান আলু মরিচ আবাদ করেছি। এতে খরচ পরিশ্রম অনেক বেশি হলে তেমন লাভবান হতে পারিনি। এ অঞ্চলের কৃষকরা ভূট্টা চাষের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তার কারণ হিসাবে বলেন, ধান, আলু মরিচ চাষে অনেক খরচ। এক বিঘা ধান চাষে খরচ হয় ২৫ হাজার টাকা। আবাদ শেষে ক্ষতি পুষিয়ে লাভের মুখ দেখা বড় কষ্টকর হয়ে উঠে। আলু মরিচ চাষ করতে গেলে আবহাওয়ার উপর নির্ভর করতে হয়। এক বছর লাভ তো আরেক বছর লোকসান। আর ভূট্টা চাষে খরচ পরিশ্রম কম। একবিঘা জমিতে ভূট্টা আবাদে খরচ পড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। আর বিঘায় পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। খরচ পরিশ্রম কম লাভ বেশি হওয়াতে কৃষকরা ভূট্টা আবাদে দিন দিন বেশি আগ্রহী হচ্ছে।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা বলেন, গত ৫ বছরে জেলায় ভুট্টার আবাদ বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি। ভুট্টার ফলন বেশি আর উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় দিন দিন কৃষকরা ব্যাপক ভাবে ভুট্টা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, ২০১৮ অর্থ বছরে জেলায় ৮ হাজার ৬শ ৪৭ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছিল। এ বছর দ্বিগুণের বেশি ভুট্টা চাষ হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ভুট্টা চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা লাভবান হচ্ছে। এ বছর জেলায় ১৭ হাজার ৪শ ৬৩ হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

মতামত দিন

আমাদের সম্পর্কে

We’re a media company. We promise to tell you what’s new in the parts of modern life that matter. Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Ut elit tellus, luctus nec ullamcorper mattis, pulvinar dapibus leo. Sed consequat, leo eget bibendum Aa, augue velit.